স্টার্টআপ তহবিল গঠন হলেও টাকা ছাড় হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল উদীয়মান ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা প্রদান করা। কিন্তু চার বছর পার হলেও বাস্তবে সেই তহবিল থেকে এখনও অর্থ ছাড় হয়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় এই তহবিলের বাইরে দেশের ৫২টি তফসিলি ব্যাংকও তাদের বার্ষিক মুনাফার ১ শতাংশ থেকে নিজস্ব স্টার্টআপ তহবিল গড়ে তোলে। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও তারা মিলিয়ে চার বছরে মাত্র ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। যা বিশাল তহবিলের তুলনায় অতি নগণ্য।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছে, যেখানে উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এমনকি ইক্যুইটি বা শেয়ারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগ পাওয়ার সুযোগও যুক্ত হয়েছে। এতে করে সরাসরি উদ্যোক্তাদের মূলধনে অংশীদার হওয়ার পথ খুলছে।

নতুন নীতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বয়সভেদে ঋণসীমা নির্ধারিত থাকবে। যেসব উদ্যোগের বয়স দুই বছরের কম তারা সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। দুই থেকে ছয় বছরের ব্যবসা সর্বোচ্চ ৫ কোটি এবং ছয় থেকে বারো বছরের ব্যবসা সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না; বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, উদ্যোক্তাদের প্রকল্প যাচাই এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় এই বিপুল তহবিল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

এছাড়া উদ্যোক্তাদেরও প্রকল্প উপস্থাপন ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারণ ব্যাংকগুলো প্রকৃত লাভজনক ও টেকসই ব্যবসা ছাড়া বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না। তাই সরকারি তহবিল কার্যকর করতে উদ্যোক্তা, ব্যাংক এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আরও সমন্বয় অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত