অসীম সাহসের গল্প: শারমিনের বিসিএস যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক।
দুই হাত অকেজো হয়েও পা দিয়ে লিখে ৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন শারমিন আক্তার। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
দুই হাত অকেজো হয়েও পা দিয়ে লিখে ৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন শারমিন আক্তার। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

জন্ম থেকেই দুই হাত অকেজো, তবু থেমে থাকেননি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের শারমিন আক্তার। হাতের পরিবর্তে পা দিয়েই লিখে ৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন শারমিন। বেঞ্চে পা তুলে কলম হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে লিখেছেন প্রশ্নের উত্তর, আর পাশে ছিলেন পরিবারের দুই সদস্য।

শারমিন জানান, জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাত দুর্বল ও বাঁকানো। হাত থাকলেও তাতে কোনো শক্তি নেই। তাই ছোটবেলা থেকেই পা দিয়েই লেখালেখি শেখেন। তিনি বলেন, “অন্যদের হাত দেখে কষ্ট হয়, মনে হয় আমার কেন নেই।” তবে এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।

সরকারি চাকরির স্বপ্ন নিয়ে শারমিন নিয়মিত চাকরির পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভার জন্য ডাক পাননি। তিনি বলেন, “পরীক্ষায় টিকে যাই, কিন্তু পরে আর ডাকে না। এভাবেই জীবন চলছে।” বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে তিন মাস অন্তর ২,৫০০ টাকা পান তিনি। কিন্তু ঢাকায় পরীক্ষার জন্য আসতে গেলে অতিরিক্ত খরচ হয়, কারণ একা চলাফেরা করতে পারেন না।

শারমিনের বাবা ফিরোজ আলম কৃষিকাজ করেন, মা গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ভাইকে বিদেশে পাঠাতে পরিবার ঋণে জর্জরিত। তাই এখন তিনিও সংসারের হাল ধরতে চান। তাঁর স্বপ্ন—একটি সরকারি চাকরি পাওয়া এবং সমাজে নিজেকে প্রমাণ করা।

পা দিয়েই ফেসবুকে লিখে নিজের দুঃখ-আকুলতা প্রকাশ করেন শারমিন। সেখানে সবার উদ্দেশে অনুরোধ করেন তাঁকে যেন একটি সরকারি চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বৃষ্টিভেজা দুপুরে তিনি আবার নোয়াখালীর পথে রওনা দেন। ফোনে জানালেন, “আমার একটাই ইচ্ছা—একটা সরকারি চাকরি পাওয়া।”

সম্পর্কিত