খুবিতে শিক্ষকদের সভা

খুবি প্রতিনিধি।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের স্বতন্ত্র উচ্চতর বেতন কাঠামো প্রবর্তনসহ পেশাগত উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এক সভা আজ ১০ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান। সভায় শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো উপস্থাপন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত।

সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলমসহ শিক্ষকবৃন্দ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে অসীম নিষ্ঠা ও মেধা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান বেতন কাঠামোয় তাদের অবদান ও মর্যাদার যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে না। এর ফলে নতুন প্রজন্ম শিক্ষকতা পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং অভিজ্ঞরা বিকল্প কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবি অনুযায়ী- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চতর বেতন স্কেল প্রবর্তন; আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গবেষণা ভাতা প্রদান; গবেষণালব্ধ জ্ঞান উপস্থাপনের জন্য প্রতিবছর অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ও একটি জাতীয় সেমিনারে অংশগ্রহণে টিএ/ডিএ ও ভ্রমণ ভাতা বরাদ্দ; উন্নতমানের জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশে বিশেষ প্রণোদনা ভাতা প্রদান; এবং শিক্ষকতার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় বিনা সুদে গাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ঋণসহ পর্যাপ্ত আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সভায় শিক্ষকরা আরও বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ন্যায্য সম্মান, সুবিধা ও পেশাগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে তারা সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ঘোষিত যৌক্তিক দাবিসমূহের প্রতি সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সদয় বিবেচনায় এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, গবেষণা হবে আরও সমৃদ্ধ ও সৃজনশীল এবং জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।
এ সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। 

বিষয়:

খুবি খুলনা

সম্পর্কিত