গোবিপ্রবিতে ফুড ফেস্ট ২.০ অনুষ্ঠিত

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
ফুড ফেস্ট ২.০। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ফুড ফেস্ট ২.০। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান ফুড ফেস্ট ২.০ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুক্তমঞ্চে' অনুষ্ঠিত হয়। প্রোগ্রামের শুরু থেকেই বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মাতিয়ে রাখে প্রোগ্রামটিকে। দ্বিতীয় ব্যাচ থেকে শুরু করে সপ্তম ব্যাচ পর্যন্ত সকল ব্যাচের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের পারফরম্যান্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ হয়।

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচকে (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) বিদায়কে স্বরণীয় করে রাখতেই এই আয়োজন। আয়োজনের পুরো সময় ধরে বিভাগীয় শিক্ষকদের উপস্থিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বহাল রাখে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক অহনা আরেফিন । এবং সভাপতিত্ব করেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল।

অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, তোমরা যারা বিদায় নিচ্ছো তোমাদের বন্ডিং জিনিসটা ব্যাচে খুব ভালো ছিলো। তবে সবার সাথে সবার মিল এক নয়। কারণ একেকজন একেক জেলা থেকে আসছো। প্রত্যেকের রুচি আলাদা আলাদা। সবমিলে এই বিভাগ তোমাদের। তোমরা সবাই একসময় গর্ব করে বলতে পারবা যদি ডিপার্টমেন্টের প্রতি ভালোবাসা থাকে। তুমি যেখানেই ভালো কিছু করবা তার সুনাম হবে এই ডিপার্টমেন্টের। তোমরা এখান থেকে যতটুকু জ্ঞান পেয়েছো তা তোমাদের কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাবে। তোমার সক্ষমতা দ্বারা তোমার জুনিয়ররাও কর্মক্ষেত্রে সুযোগ পাবে এজন্য যে, তুমি যখন ভালো কাজ করবা তখন ওইরকম প্রতিষ্ঠান ভাববে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সবাই দক্ষ। তাই তোমার দক্ষতা ভালোভাবে কাজে লাগাও যাতে তোমার জুনিয়ররাও পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, এই ব্যাচ টা খুব এক্টিভ ছিল। এদের অনেক গুড উইলও আছে। এই ব্যাচে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী রয়েছে। আমি চায় তোমাদের মধ্যে থেকে অনেকে বিসিএস ক্যাডার হোক এবং স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক সেই জন্য শুভ কামনা রইল।পাশাপাশি তিনি বিভাগের ভবিষ্যৎ আরো সুন্দর করার অনুপ্রেরণা মূলক কথা বলেন।

বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসাইন অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, বিদায় খুব ক্ষুদ্র শব্দ মনে হলেও এর ভার অনেক। বিদায় শব্দটা অনেক কষ্টের,যদিও আনন্দও আছে আমরা নতুন জীবনে পা রাখবো। এই ক্যাম্পাসে কাঠানো প্রতিটা মুহূর্ত ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। যখন দেখতাম সিনিয়র ভাইদের মুখে হাশি থাকত। কিন্তু এখন বিদায় মুহুর্তে সেই হাশি আর দেখিনা। যাইহোক আমরাও একদিন ডিপার্টমেন্ট থেকে চলে যাব। ছেড়ে চলে যাওয়াটা আসলেই কষ্টের। তোমরা মিলেমিশে থাকো। আমরা অ্যালামনাইতে তোমাদের মাঝে ফিরে আসব। তোমাদের মাঝে ভালোবাসা বৃদ্ধি কর ও মিলেমিশে চলবা। তোমাদের প্রতি দোয়া রইল। আমাদের জন্যও দোয়া করবা। সবার প্রতি শুভ কামনা রইল।

উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ইঞ্জিনিয়ারিং সহ মোট ৩৩ টি ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। যার মধ্যে অগ্রগামী ডিপার্টমেন্ট গুলোর মধ্যে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অন্যতম। বিভাগটি প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, ইনডোর আউটডোর গেম, কালচারাল প্রোগ্রাম আয়োজন করে থাকে।

সম্পর্কিত