রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রশিবির নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৯:৩০ মিনিটে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কোরয়ান তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্টানটি শুরু হয়। কিন্তু সকাল ৮:৩০ মিনিট থেকে ৯:১৫ মিনিট পর্যন্ত মিলনায়তনের সামনে বিভিন্ন বুথে গিফট ও ফুলের ব্যবস্থা করা হয়।
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জুলাইয়ের স্প্রিরিট ধারণ করে সেই আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের জারি রাখতে হবে। ষড়যন্ত্র এখনও বন্ধ হয়নি, ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও বিভিন্ন জায়গায় বসে আছে। সেকারণে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আবার যারা নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যারা নিজেদের বড় রাজনৈতিক দল দাবি করে তারা ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলছে। ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ করছে সেখানে তারা মেজর সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে খুনি হাসিনাসহ সকল দোসরদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। হাসিনাকে দেশে এনে ফাসিতে ঝুলাতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে একটি নতুন শ্রেণী ব্যবসা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে যেভাবে বিকৃত করে একটি শ্রেণীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, একইভাবে জুলাই আন্দোলনকেও একটি গোষ্ঠীর মালিকানায় নিতে চাইছে তারা। অথচ জুলাই আন্দোলনে কোনো একক নেতা ছিল না। রাজপথের প্রতিটি মানুষই ছিলেন নেতা। তাই আমরা কোনোভাবেই জুলাইকে বিকৃত হতে দেবো না; পতিত বা নব্য ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত থেকে জুলাইয়ের চেতনা রক্ষা করব, ইনশাআল্লাহ।
সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পড়াশোনা করছেন, তা দেশের কৃষক, শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের ট্যাক্সের টাকায়। তাই সমাজের প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতা গভীর।’
এসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’র (চাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা যে রাষ্ট্র বা ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা করেছিলাম, তা এখনো গড়ে তুলতে পারিনি। কারণ গত জুলাইয়ে যারা বুলেটের সামনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তারাই এখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে বিভিন্ন মতাদর্শে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম তাদের হাত ধরে দেশ সামনে এগিয়ে যাবে। কিন্তু তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেশবাসীকে হতাশ করেছে।’তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের যেসব দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করতে গিয়ে আমরা বহুবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিও নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।’
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’র (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন। তিনি নবীনদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ও রাবি শাখা শিবিরের সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।