প্রায় ২৮ বছর অচল থাকার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন অবশেষে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৫ আগস্ট। দীর্ঘ এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না থাকলেও সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক দাবির প্রেক্ষিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশাবাদী শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, শাকসু শুধু ভোটের আয়োজন নয়, বরং নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার আদায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তারা প্রশাসনের কাছে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি রাহাত জামান বলেন, শাকসু নির্বাচন শুধু ভোটের আয়োজন নয় বরং আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আমাদের প্রজন্মের গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আমি চাই শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিক এবং তাদের কণ্ঠস্বর শক্তভাবে প্রতিফলিত হোক। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা থাকবে তারা যেন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করে, যাতে সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের মতামতই জয়ী হয়। একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সবচেয়ে বড় শক্তি যেটা বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর থাকবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইন শাহ্ আল্লাহ্।
শাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, 'দীর্ঘ দিন পরে শাকসু নির্বাচনের ঘোষণা করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা চাই সকল শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শাকসু হওয়া জরুরী।সেই সাথে প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা থাকবে সুষ্ঠভাবে দলমতের উর্ধ্বে উঠে ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন করা।শিক্ষার্থীরা যেনো তাদের নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করে যাতে করে তারা নির্বিঘ্নে তাদের মনের অব্যক্ত কথা গুলো উপস্থাপন করতে পারে।'
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির বলেন, ' শাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার খবরে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সবাই আশাবাদী হয়েছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার, মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পাব। প্রশাসনের প্রতি আমার প্রত্যাশা হলো, নির্বাচন যেন কোনো প্রকার প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়। শিক্ষার্থীদের আস্থা ফেরানোর জন্য প্রশাসনকে ন্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।আমরা সবাই চাই, এই শাকসু নির্বাচন হোক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা, নতুন নেতৃত্ব আর পরিবর্তনের সূচনা। এরমাধ্যমে জুলাইয়ে শহীদ-আহতদের ত্যাগের মূল্যায়ন হবে বলে আমরা মনে করি।'
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মমিনুর রশিদ শুভ বলেন, 'শাকসু ছাড়া ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করার মত কোনো নেতৃত্ব পাবার সুযোগ নেই।একমাত্র শাকসুর মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র নির্বাচন করা সম্ভব।ছাএদের মধ্যে নেতৃত্ব তৈরির জন্য শাকসুর নির্বাচন প্রয়োজন।শাকসু হচ্ছে একমাত্র প্লার্টফর্ম যেখানে দাঁড়িয়ে সকল শিক্ষার্থী তাদের ভয়েস রেইজ করতে পারবে।'
সমাজবিজ্ঞানী বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসাইন বলেন, 'আমি মনেকরি, শাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকার।প্রশাসনের উচিত গড়িমসি না করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দ্রুত শাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা।আমি আশাবাদী, শিক্ষার্থীরা জুলাই অভ্যুত্থান সহ প্রতিটি ইস্যুতে যারা সোচ্চার হয়ে মাঠে ছিলো ও ভবিষ্যতে ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করবে তাদেরকে বিবেচনায় রাখবেন।'
শাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে আন্তরিকতা সৃষ্টির একটি সেতুবন্ধন।শাবিপ্রবিতে ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছে, তাই বারবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রহসন বন্ধ করে রাজনীতি উন্মুক্ত করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করু। এই নির্বাচন একটি অধিকার আদায়ের উৎসব।
শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতারা একমত, সুষ্ঠু শাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র চর্চা ও নতুন নেতৃত্বের সূচনা হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই নির্বাচনের ফলে শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ-আহতদের ত্যাগেরও মর্যাদা রক্ষা পাবে।