চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি)-এ শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। দাবি পূরণে প্রশাসনের অনীহা এবং বারবার আশ্বাস বাস্তবায়নে বিলম্বের অভিযোগ তুলে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে ভেতরে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রশাসন তা বাস্তবে রূপ দিচ্ছে না। তাদের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অযৌক্তিক লেট ফি বাতিল, মানসম্মত ল্যাবরেটরি স্থাপন, হলরুম থেকে ক্লাসরুম স্থানান্তর, প্রতিটি সেমিস্টারে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, মেডিক্যাল সেবা সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়।
অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস শুনছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এবার কার্যকর সমাধান ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো কার্যক্রম চলতে দেব না।”
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, প্রশাসন দাবি পূরণের ব্যাপারে আন্তরিক। তবে কিছু দাবি বাস্তবায়নে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে, আবার কিছু দাবিতে আরও বেশি সময় প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে এবং রোডম্যাপ মেনে নিতে আহ্বান জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রক্টরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চায় এবং সমস্যাগুলোর সমাধান ধাপে ধাপে করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা জোর দিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থায় শিক্ষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেকে প্রশাসনিক ভবনে আটকা থাকায় নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান ও প্রশাসনের সময়সাপেক্ষ পরিকল্পনার কারণে পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে, তা নিয়ে ক্যাম্পাসে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
এই ঘটনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। দাবি আদায়ের আন্দোলন দ্রুত সমাধান না হলে একাডেমিক সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।