বাকৃবি গুচ্ছ ছাড়ছে, ভেঙে যেতে পারে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

বাকৃবি প্রতিনিধি।
বাকৃবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাচল—কৃষি গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার আলোচনায় নতুন উত্তেজনা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
বাকৃবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাচল—কৃষি গুচ্ছ থেকে বের হওয়ার আলোচনায় নতুন উত্তেজনা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) আসন্ন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কৃষি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার চিন্তা করছে। ফলে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বসেছে এবং এককভাবে ভর্তি কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

বাকৃবির প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি কাঠামো ও একাডেমিক স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। গুচ্ছের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মান যাচাই যথাযথভাবে করা যাচ্ছে না, এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে। এছাড়া ভর্তি ফল প্রকাশ ও শিক্ষার্থী বণ্টন প্রক্রিয়ায় একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাকৃবির উপাচার্য বলেন, “গুচ্ছ পদ্ধতিতে থেকে আমরা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র অবস্থান ও ঐতিহ্য রক্ষায় এককভাবে ভর্তি পরীক্ষাই যৌক্তিক হবে।” তিনি আরও জানান, আগের বছরও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুচ্ছ থেকে বের হয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, কিন্তু প্রশাসনিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা হবে।

বর্তমানে কৃষি গুচ্ছের আওতায় নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, বাকৃবি গুচ্ছ থেকে বের হয়ে গেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের যৌথ ভর্তি পরীক্ষার স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদা ভর্তি আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও বাড়তে পারে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, গুচ্ছ ভাঙলেও মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী বাছাইয়ের সুযোগ আরও নির্ভুল হতে পারে।

সবশেষে, বাকৃবির এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়—গুচ্ছ পদ্ধতির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করে।

সম্পর্কিত