বেরোবি ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিতর্কিত অতিথি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা

বেরোবি প্রতিনিধি।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম বর্ষটি ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিতর্কপূর্ণ ঘটনায় ঘেরা।

গত বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতার জন্য বিভিন্ন ঘটনা আলোচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম প্রধান অতিথি ছিলেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে রাজনৈতিক প্রভাবিত ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে, যা নাহিদ ইসলাম প্রত্যাখ্যান করেন।

২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়।

শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭১ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয় এবং সাত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক নাম 'রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়' পুনঃস্থাপনের দাবি জানায়, তবে প্রশাসন তা মেনে নেয়নি।

দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে, শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাপ দেন। বেরোবির ১নং গেটের সামনে শহীদ আবু সাঈদ স্মরণে স্থাপিত ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্পে’ তথ্যগত অসংগতি ধরা পড়ে, যা সংশোধনের দাবি জানানো হয়।

ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন চালান এবং বাধ্য হয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন। পরে উপাচার্য তাদের দাবি মেনে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সমাবর্তনের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ঘোষণা করে। তবে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তারা রাষ্ট্রপতি বা নোবেল বিজয়ী ব্যক্তির উপস্থিতি চেয়েছিলেন।

এসব ঘটনা বেরোবির ১৭তম বর্ষকে স্মরণীয় করেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন রেখে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত