নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতা ও নাশকতার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি ও জাকসু নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিভিন্ন চত্ত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ও তাদের অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক সংলগ্নে মিছিল ও প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার প্রতিবাদে রাত ৯টায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ছাত্রশক্তি।
প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ফটকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের প্রতিবাদ ও জুলাইয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারের দাবিতে রাত ১০টায় মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
মানববন্ধনে জাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘জাকসুর আগেও আমরা জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার নিয়ে সোচ্চার ছিলাম, জাকসুতে নির্বাচিত হওয়ার পরেও আমরা বিচারের দাবি থেকে এক চুলও সরে আসিনি। জুলাই হামলার বিচারের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিতে যেসব শিক্ষক রয়েছেন, তারা যদি জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা না করেন, তাহলে আমরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ার আগে আপনাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব।’
এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি আর কখনো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসের ত্রিসীমানায় কোনো ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার দুঃসাহস দেখান, তাহলে আপনারা এখান থেকে জীবিত হয়ে মায়ের কোলে ফিরে যেতে পারবেন না। এখনো আমাদের অনেক মায়ের সন্তান বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে আছেন, অনেক জুলাই যোদ্ধা এখনো হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে, আর আপনারা এখানে মানববন্ধন করার দুঃসাহস দেখান, আপনাদের দুঃসাহসকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করব আমরা।’
বিক্ষোভ মিছিলে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে আওয়ামীলীগকে তার রক্তপিপাসু রূপ দেখানোর মাধ্যমে তাদের ফ্যাসীবাদি যাত্রা শুরু করেছিল। তারপর নয় সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ ও ২৪ এর গণহত্যার মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী রক্তপিপাসার সিলিসিলা বজায় রেখেছিল। আমরা আজ দেখেছি ছাত্রলীগ নামের কিছু কুলাঙ্গার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে সামনে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে সন্ত্রাসীদেরকে আমাদের চব্বিশের শহিদেরা রক্ত দিয়ে নিষিদ্ধ করেছে, তারা আজীবন নিষিদ্ধই থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনাদের গাফিলতির কারণেই ছাত্রলীগ আজ নাশকতা পরিকল্পনা করার সুযোগ পাচ্ছে। আপনারা অতিদ্রুত ছাত্রলীগের শেল্টারদাতাদের চিহ্নিত করুন, অপরাধীদের বিচার করুন। অন্যথায় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের দায় আপনাদেরকে নিতে হবে।
/এজেড