মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) সহকারী রেজিস্ট্রার আজাদ খান ভাসানীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসকের পরামর্শে কোমরের ব্যথাজনিত সমস্যার কারণে তিনি চলতি বছরের ৩ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৭ দিনের মেডিকেল ছুটি নিয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, ছুটির মাত্র চারদিন পর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরব হয়ে উঠেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, এই কর্মকর্তা ১২ সপ্তাহের চিকিৎসাজনিত ছুটিতে রয়েছেন। কিন্তু ৭ আগস্ট থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ে। জনসংযোগ, আলোচনা সভা, কৃষক উইং গঠন, সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাকে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, ছুটির মধ্যে থেকেও তিনি কখনও কখনও অফিসে হাজির হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অথচ মেডিকেল গ্রাউন্ডে ছুটি নেয়ার কারণে অফিসে তার উপস্থিত থাকার কথা নয়।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১-এর ৪৭ নম্বর ধারা এবং সম্প্রতি রিজেন্ট বোর্ড ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবে বলা আছে— বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। একইসঙ্গে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিতেও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “অভিযোগ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আসে, প্রশাসন তখন বিষয়টি দেখবে।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা আজাদ খান দাবি করেন, তিনি যেখানে যান, সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে কোমরের বেল্ট ব্যবহার করেন। পাশাপাশি অর্জিত ছুটি থাকায় অফিসে উপস্থিত হওয়ায় কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন সবার আগ্রহের বিষয়।