ঢাবি-ঢাকা কলেজের সংঘর্ষ নিয়ে যা জানা গেল

আরিফ জাওয়াদ
স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হাবিব উল্লাহ হাবিব। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হাবিব উল্লাহ হাবিব। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ফুটপাতে দোকান বসাকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিকসহ উভয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহতের ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে উত্তেজনা শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় উভয়পক্ষের ইট-পাটকেল, কাঁচ নিক্ষেপ করে। এছাড়া ককটেল নিক্ষেপ ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টা খানেক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পুরোপুরিভবে নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তেজনা চলে ভোর ৪টা পর্যন্ত। এসময় শিক্ষার্থীরা বিচার দাবি করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থানও নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিউমার্কেট-আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় ঢাবির স্যার এ এফ রহমান হলের সঙ্গে সংযুক্ত শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের ফুটপাতে দোকান বসাকে ঘিরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এভাবে দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাখানেক চলতে থাকে, এর এক পর্যায়ে শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা এবং স্থানীয়রা মিলে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পুরো পরিস্থিতি নেয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ফুটপাতে দোকান বসাকে ঘিরে উল্লেখ করে স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হাবিব উল্লাহ হাবিব বলেন, ‘ফুটপাতে একটা দোকান বসা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানতে পারি, ২০-২৫ বছর ধরে কিছু ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে দোকান করে আসছিল কিন্তু ঢাকা কলেজের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন এক দোকান সরিয়ে আরেক দোকান স্থাপন করে। পরে আমাদের ছাত্রাবাসের ছেলেরা তাদের বলে নতুন স্থাপিত দোকানটি যেন সরিয়ে নেয়া হয়। এরপরই ঢাকা কলেজের ছেলেরা ৫০-৬০ জন নিয়ে এসে হামলা চালায়, আমাদের হলের শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরেই ছিল। বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে।’

এদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ ছাত্রনেতারা। এসময় সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে কোন চাঁদাবাজি চলবে না। যারা চাঁদাবাজি করতে এসেছিল এবং যারাই হামলা চালিয়েছে, সবকিছুর সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে অপরাধী যেই হোক প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় আনা হবে।’

এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে ঢাকা কলেজের কোন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি না পাওয়াতে কারও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আমরা জানতে পেরেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রবাসের ফুটপাতে দোকান বসাকে ঘিরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি যে কি ঘটেছে, যদি আইনগত কোন এখানে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন হয়, আমরা অবশ্যই সেটি নেবো।’

সম্পর্কিত