ঢাবিতে ইসকনবিরোধী তীব্র আন্দোলন, নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্রসমাবেশ

ঢাবি প্রতিনিধি।
ভাস্কর্যে ইসকনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা—বৃহস্পতিবার রাতের সমাবেশের এক দৃশ্য। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
ভাস্কর্যে ইসকনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা—বৃহস্পতিবার রাতের সমাবেশের এক দৃশ্য। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ইসকনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা মিছিলটি শুরু করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। তাদের মূল দাবি—বাংলাদেশ থেকে ইসকন সংগঠন নিষিদ্ধ করা হোক।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসকন সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে হামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে। তারা দাবি করেন, পঞ্চগড়ে এক খতিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনাও ইসকন সদস্যদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বক্তারা অভিযোগ করেন, ইসকন বাংলাদেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন—“ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী”, “একটা একটা ইসকন ধর, ধরে ধরে জেলে ভর”, “আমার সোনার বাংলায় ইসকনের ঠাঁই নাই”, “ইসকন আর স্বৈরাচার মিলেমিশে একাকার।” তাদের দাবি, এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ঢাবির শিক্ষার্থী মাহতাপ ইসলাম বলেন, “ইসকন বাংলাদেশে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করছে। তারা একজন খতিবকে অপহরণ ও নির্যাতন করেছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।” তিনি দাবি করেন, ভারতের সহযোগিতায় ইসকন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

আরেক শিক্ষার্থী সাদমান আব্দুল বলেন, “ইসকন শুরু থেকেই একটি উগ্র সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। গাজীপুরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায়ও ইসকনের সদস্যদের নাম এসেছে। এই সংগঠন দেশের মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করতে চায়।”

শিক্ষার্থীরা একযোগে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে ইসকনের কার্যক্রম তদন্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তারা বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে কোনো সহিংসতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।

রাজু ভাস্কর্যের এই সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সতর্ক করেন, দাবি পূরণ না হলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন।

সম্পর্কিত