সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাংলাদেশ পুলিশ ও ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচ উভয়েই এই তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক তরুণীকে মারধরের দৃশ্য। ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশন দাবি করছে যে, ঢাবির শিক্ষার্থী এই ঘটনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু পুলিশ জানায়, ভিডিওটির ঘটনা ঢাকার নয়; এটি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় ঘটে। ১৩ সেপ্টেম্বর নওরীন সুলতানা নামে এক তরুণী ও তার পরিবারের ওপর হামলা হয়। এই ঘটনায় ধর্ষণের কোনো প্রমাণ বা সম্পর্ক নেই। নওরীন সুলতানা চট্টগ্রামের কাপাসগোল সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের বিবিএ (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, ভিডিওতে থাকা ছবিটি চান্দগাঁও থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইমামুল হাসানের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এটি সম্পত্তি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের ঘটনা, এবং এতে কোনো ধর্ষণের ঘটনা নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। ভিডিওটি ঢাবির শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে গণধর্ষণের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশও সতর্ক করে বলেছে, এমন গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা উচিত নয়।
তথ্য যাচাই ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার করা বিপজ্জনক। ফ্যাক্টওয়াচ এবং পুলিশ উভয়ই সবাইকে সতর্ক করেছেন, সত্যতা যাচাই না করে কোন সংবাদ বা ভিডিও শেয়ার করা উচিত নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তাই ব্যবহারকারীদের উচিত যে কোনও তথ্য দেখার পর প্রথমে সত্যতা যাচাই করা। মিথ্যা তথ্য প্রচারের ফলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।