রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, চলমান পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে, ফলে নির্বাচন প্রাণবন্ত হবে না। তাই তারা চাচ্ছেন, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হোক।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও রাকসু নির্বাচনে উপ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর জানান, কয়েকদিন আগেও ক্যাম্পাসে নির্বাচনী আমেজ ও শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন হয়ে গেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ছুটিতে বাসায় চলে গেছেন, ফলে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণাতেও গতিশীলতা হারিয়েছে।
তার ভাষ্যে, "বর্তমানে ক্যাম্পাসে ভোটারদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে চাইলে দুর্গাপূজার ছুটির পর ভোটগ্রহণ করা উচিত। তখন শিক্ষার্থীরা ফিরে এলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে।"
ছাত্রদলের নেতারা মনে করছেন, উৎসবের সময়ে ভোট আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে সবার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। তাই পূজার পরে ভোটের দিন ধার্য করলে তা শুধু ভোটারদের উপস্থিতিই নিশ্চিত করবে না, বরং প্রার্থীদের জন্যও সমান সুযোগ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হওয়া দরকার। তবে ভোটের সঠিক সময় নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবকালীন সময় নির্বাচন হলে তা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। এবার সময়সূচী নিয়েই প্রধান বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছাত্রদলসহ কিছু সংগঠন দাবি তুলেছে, পূজার পরে নির্বাচন করলে তা হবে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাকসু নির্বাচন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক চর্চার দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।