ফাঁকা চাকসুর তহবিল, ফি নিলেও নেই কোন ব্যাংক হিসাব

চবি প্রতিনিধি
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচন। ১৫ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৩ অক্টোবর শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নব-নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। ৩৫ বছর পর ছাত্র সংসদটি পেল তার নির্বাচিত প্রতিনিধি। তবে দায়িত্ব নিলেও এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখে পড়েছেন ছাত্র প্রতিনিধিরা। কারণ চাকসুর নামে নেই কোনো পৃথক তহবিল, এমনকি কোন ব্যাংক একাউন্টও নেই। 

ফলে, নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করলেও কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা এখনও তারা হাতে পাননি। এই পরিস্থিতিতে চাকসুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়ন সবই অনিশ্চয়তায় ভরা। 

অথচ প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাকসু খাতে নেওয়া হয় নির্দিষ্ট ফি, যা বছরে ১০ লাখ টাকারও বেশি। তবুও, কোনো প্রশাসনই কখনও চাকসুর জন্য পৃথক তহবিল বা বাজেট গঠন করেনি। ১৯৯০ সালের পর ৩৫ বছর কোনও চাকসু নির্বাচন হয়নি। এত বছর পরও নবগঠিত চাকসুর ফান্ডে এখনও একটি টাকাও নেই। 

চাকসুর নিজস্ব কোনো তহবিল নেই এমনকি চাকসুর নামে কোনো একাউন্টও নেই বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিয়ামক অফিস। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সচিব ও হিসাব নিয়ামক মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, "চাকসুর কোনো তহবিল নেই, চাকসুর নামে কোনো একাউন্টও নেই। যখন প্রয়োজন হবে তখন বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবে সেটি বিবেচনা করবে। চাকসুর জন্য আলাদা কোনো তহবিল একাউন্ট নেই।" 

ছাত্রকল্যাণ ফি ও ছাত্র উন্নয়ন ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এগুলো তো চাকসুর সাথে সম্পৃক্ত না। এগুলোর ব্যয় বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সভাপতি ও চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন প্রথম বর্ষে ভর্তি হয় তখন তারা একটি ফি দেয় সেখান থেকে চাকসুর জন্য ইনকাম হয়। ঘটনা হচ্ছে চাকসু নেই কিন্তু চাকসুর কার্যক্রমগুলো চলমান আছে। যেমন প্রত্যেক বছর বার্ষিক খেলাধুলা হচ্ছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চা পানি খাওয়ানো হচ্ছে, ওখানে স্টাফদের পিছনে খরচ হয়েছে এবং চাকসুর অন্যান্য যে কার্যক্রম যেমন বিভিন্ন দিবস যেগুলো হয়তো চাকসু করতো। সে খরচগুলো চাকসুর ফান্ড থেকে হয়েছে কি-না সেটি দেখতে হবে।" 

তিনি বলেন, "আমার জানামতে চাকসুর কোনো ফান্ড নেই, ছিল না। তারমানে এই না যে চাকসুর খাতে কোনো ইনকাম হয়নি। প্রত্যেক বছর ছাত্ররা ভর্তির সময় চাকসুর একটা ফি সেটা দিয়েছে। সেই টাকা খরচ হয়েছে। কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে সে হিসেব ভাইস চ্যান্সেলরের পক্ষে রাখা সম্ভব না। সেটি একাউন্ট অফিস জানবে। একাউন্ট অফিস হিসাব দিতে পারবে বলে মনে হয়না যেহেতু ৩৬ বছর চাকসু ছিল না।" 

তিনি আরও বলেন, "নতুন করে চাকসু শুরু হয়েছে আমরা তাদের সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দিব। আমরা প্রয়োজনে চাকসুর জন্য ফান্ড চাইব ইউজিসির কাছে।" 

চাকসুর নবনির্বাচিত জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, "চাকসুর তহবিলে কোনো টাকা নেই এটা আমরা জানার পর প্রশাসনের সাথে কথা বলেছিলাম। প্রশাসন কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। ৩ তারিখ আমাদের প্রথম অফিসিয়াল কার্যনির্বাহী মিটিং হবে। সেখানে আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব যে, ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চাকসুর যে টাকাটা জমা হওয়ার কথা, এই টাকাটা কোথায় আছে, কোন তহবিলে আছে। অথবা উনারা যদি খরচ করে থাকে, তাহলে সেটি কোন কোন খাতে খরচ করেছে?" 

তিনি বলেন, উনারা (প্রশাসন) যে টাকাটা খরচ করেছেন সেটি অবশ্যই আমাদের ফেরত দিতে হবে। কারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। আমরা এটি নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ। শিক্ষার্থীদের চাকসুর জন্য যে বাজেট বা টাকা জমা হয়েছে প্রশাসন সেটি দিতে অবশ্যই বাধ্য থাকবেন।"

চাকসুর নবনির্বাচিত এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, "আমরা বাজেট নিয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি প্রতি বছর ১২ লাখ টাকা আছে চাকসু খাতে। ক্রীড়া অনুষ্ঠানসহ কিছু অনুষ্ঠানে না-কি অনেক টাকা যায়। নির্বাচিত হবার পর আমরা ফান্ডে কোনো টাকা পাইনি।" 

তিনি আরও বলেন, "আমরা কী কী কাজ করব, ঐ কাজে খরচ কেমন হবে সেটা নির্ধারণ করে আমরা বাজেট প্রস্তুত করব এবং উপাচার্য বরাবর উপস্থাপন করব এবং তাদের (প্রশাসন) কাছ থেকে অনুমোদন নিব যে উনারা কত টাকা দিবে, কত টাকা এনে দিবে। বছরে কত টাকা বাজেট লাগবে আমরা সেটি তৈরি করে উনার (উপাচার্য) সাথে আলোচনা করব।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা কী কী কাজ করতে পারি সেটা দেখে নির্ধারণ করব। বাজেট তো আমরা নিজস্ব কাজে খরচ করব না, বা সম্পাদকীয় কেউ খেয়ে ফেলব না। বাজেট শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হবে। বাজেট যদি কম থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে আমাদের কাজগুলো করে দিবে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।"

সম্পর্কিত