জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী হলে সিট পাওয়ার জন্য চমকপ্রদ প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। ফরমে তিনি নিজের শিক্ষক বাবাকে কৃষক, মাকে গৃহিণী এবং দুলাভাইকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। তদন্তে জানা গেছে, তাদের প্রকৃত পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন— পরিবারটি সচ্ছল ও শিক্ষিত।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ওই ছাত্রী দিয়া চৌধুরী ফরমে বাবার পেশা হিসেবে “কৃষক” লিখে বার্ষিক আয় মাত্র ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। একইভাবে মায়ের পেশা দেখান “গৃহিণী” এবং আয় “শূন্য”। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায়, তার বাবা হান্নান চৌধুরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ভাকলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক, যিনি সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন এবং নিয়মিত পেনশন পাচ্ছেন। মা সাদিয়া নওশীন একই উপজেলার চৌধুরী মাহবুব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, যার বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকার বেশি।
এছাড়া, ফরমে ঢাকায় স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে তিনি ভাই রুবেল হোসেন নামের এক ব্যক্তির নাম দেন, যিনি বাস্তবে তার দুলাভাই এবং বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। কিন্তু আবেদনপত্রে তার পরিচয় দেন ব্যবসায়ী হিসেবে।
আরও জানা গেছে, ওই ছাত্রী জবি নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদকে বিয়ে করেছেন, যিনি বর্তমানে সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় চাকরি করছেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে “বড় ভাই” হিসেবে পরিচয় দেন দিয়া।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনজুম আরা উর্মি বলেন,“আবেদন ফরমে সে নিজেকে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। এখন বিষয়টি তদন্তাধীন, প্রমাণ মিললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ছাত্রীও পরে স্বীকার করেছেন,“প্রথমে কৃষক-গৃহিণী পরিচয় দিয়েছিলাম, পরে সঠিক তথ্য দিয়েছি।”
তবে সাংবাদিকের হাতে থাকা সর্বশেষ আবেদনে একই মিথ্যা তথ্যই পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে হলে সিট যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে, যাতে এ ধরনের প্রতারণা আর না ঘটে।
/এমএস