ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২২ জানুয়ারি রাতে বাস ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শাস্তি হিসেবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনা ঘটে তখন, এক বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অভিযোগ অনুসারে, বাসের সুপারভাইজারের আচরণ ছিল অশালীন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসম্মানজনক। এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা বাসটি ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের কাছে আটকে রাখে। পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করে এবং কিছু শিক্ষার্থী বাসে ভাঙচুর চালায়, যার ফলে ক্যাম্পাসে হিংসাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইবি সিন্ডিকেটের ২৭০তম সভায় শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন শাহরিয়ার নাজিম (বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ২০১৯‑২০ বর্ষ) এবং মোস্তাফিজুর রহমান সায়েম (মার্কেটিং, ২০২১‑২২ বর্ষ)। এছাড়া ছয় মাসের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন আব্দুল মান্নান লুমান, তাকবির হাসান হৃদয় এবং সৈয়দ সাজিদ হোসেন (মার্কেটিং, ২০২১‑২২ বর্ষ)। অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন আরও জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের মূল লক্ষ্য। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা কীভাবে দায়িত্বশীল ও নৈতিক আচরণ বজায় রাখবে তা নিয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রশাসন আশা করছে, এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি সতর্ক বার্তা হিসেবে কাজ করবে।