ইউজিসির আপত্তি উপেক্ষা করে ববিতে পদোন্নতি বিতর্ক

ববি প্রতিনিধি।
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
ফাইল ফটো। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২৪টি অধ্যাপক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে কঠোর আপত্তি জানিয়েছে।

সম্প্রতি ইউজিসির তিন সদস্যের একটি বাজেট টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে অডিট পরিচালনা করে ১৭টি বিষয়ে আপত্তি জানায়। এর মধ্যে ৬টি আপত্তি সরাসরি পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত। ইউজিসির আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের নির্দেশে পদোন্নতি বোর্ডের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অডিট আপত্তির ফলে ইউজিসি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪ কোটি টাকার বাজেট থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে। সংশোধিত বাজেটে এখন বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। ইউজিসি জানায়, অনুমোদনবিহীন ব্যয় যেমন—দৈনিক মজুরি কর্মচারীদের জন্য ৮৪ লাখ টাকা, বিআরটিসি বাস ভাড়া বাবদ ১ কোটি ৭২ লাখ, পরিবহন ব্যয় ২ কোটি ৭৬ লাখ, আনসার নিয়োগ ৯০ লাখ, ও অন্যান্য অননুমোদিত খাতে কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আপত্তি উঠেছে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন নিয়ে। ইউজিসি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২টি শূন্য পদ অনুমোদিত থাকলেও ২৪টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলছে। আরও জানা যায়, ৯টি অনুমোদিত অধ্যাপক পদের মধ্যে ৭টি পদ ব্লক করে সেখানে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।

এছাড়া, চলতি বছরের ৭ জুলাইয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১০ জন প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬টি পদে ইউজিসির অনুমোদন ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পদোন্নতি বোর্ডের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১ নভেম্বর উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের বোর্ডের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

ভিসি অধ্যাপক তৌফিক আলম বলেন, “ইউজিসি যা বলবে, আমরা তা মানতে বাধ্য। তবে এখনো লিখিতভাবে কোনো অডিট আপত্তি হাতে পাইনি। লিখিতভাবে পেলে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।”

/এমএস

সম্পর্কিত