জকসু প্রার্থীদের ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক, আপিলের সুযোগ নেই

জবি প্রতিনিধি
সংগৃহীত ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
সংগৃহীত ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের তফসিল ও আচরণবিধি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত আচরণবিধিতে এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ডোপটেস্ট (মাদক পরীক্ষা), যা অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনে— ২৭ ও ৩০ নভেম্বর।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকেই ডোপটেস্টে অংশ নিতে হবে। কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অনুপস্থিত থাকলে তার মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। আর পরীক্ষায় মাদকাসক্ত প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা অবৈধ বলে গণ্য হবে। এ পরীক্ষার ফলের বিষয়ে কোনো ধরনের আপিল বা আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে কমিশন জানায়।

এছাড়া আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রচারণা কার্যক্রমে ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা একাডেমিক সময় ব্যাহত করা যাবে না। মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরুর আগের দিন (১২ নভেম্বর) থেকে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা কল্যাণমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। অনুমতি ছাড়া ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর সমাবেশও নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রচারণায় বহিরাগতদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার ইস্যুকৃত বিশেষ পরিচয়পত্র নিয়ে অংশ নিতে পারবেন। একটি প্যানেলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ ২টি পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। এসব পরিচয়পত্র শুধুমাত্র প্রচারণা চলাকালীন সময় পর্যন্ত বৈধ থাকবে।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মনোনয়ন দাখিলের পর থেকে উন্মুক্ত লাইব্রেরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি যথারীতি খোলা থাকবে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিদিন রাত ১০টার মধ্যে প্রচারণা শেষ করতে হবে।

ভোটের দিন মোবাইল বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বুথে নেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ভোট গণনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রবেশ করতে পারবেন, কিন্তু বুথের অভ্যন্তরে যাওয়া যাবে না।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২২ ডিসেম্বর, এবং ভোট গ্রহণ শেষে একই দিন ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

/এমএস

সম্পর্কিত