খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অবসরের মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকা অবস্থায় নতুন পদে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নানা সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ও দুই উপ-পরিচালক পদে এই নিয়োগ কার্যকর হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন উপ-রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান, উপ-পরিচালক কাজী আবু খালিদ এবং উপ-পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান। নতুন পদে যোগদানের আগে তাঁরা যথাক্রমে সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।
এই নিয়োগের সময়সীমা খুবই স্বল্প। ১৩ ডিসেম্বর আব্দুর রহমান, ১৬ ডিসেম্বর সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি কাজী আবু খালিদের অবসর কার্যকর হবে। অর্থাৎ, নতুন পদে তাঁরা দুই থেকে চার মাসের মধ্যে চাকরি শেষ করতে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন স্বল্পমেয়াদী পদোন্নতি সরকারি ব্যয় বাড়াতে পারে এবং প্রশাসনিক নীতির ক্ষেত্রে প্রশ্নচিহ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন সময় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। অবসর নেওয়ার আগে এই পদোন্নতি তাদের জন্য মর্যাদা এবং আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করবে। উপ-রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শেষ মুহূর্তে সম্মান জানালো। এটি আমাদের জন্য স্বস্তির।” অন্য দুই কর্মকর্তা একই কথা উল্লেখ করেছেন।
খুবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, “নিয়োগ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মকর্তাদের অবিচারের শিকার হওয়া কিছুটা নিয়োগের পেছনের কারণ।” তবে উপ-উপাচার্য ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান জানান, “আগের প্রশাসনও এমন পদোন্নতি দিয়ে গেছে, তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সার্ভিস রুলের সঙ্গে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।”
এই পদোন্নতির মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।