বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার পর এবার কারাগারে বুয়েট শিক্ষার্থী

ঢাবি প্রতিনিধি
কারাগারে বুয়েট শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
কারাগারে বুয়েট শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছদ্মনাম ব্যবহার করে ধর্ষণ, বোরকা, হিজাব ও নারী বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই শিক্ষার্থীর নাম শ্রীশান্ত রায়। তিনি তড়িৎ প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদিকে বহিষ্কারের পরপরই বুয়েট কর্তৃপক্ষের দয়ের করা এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীশান্ত রায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটে ‘WeeklyService923’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছদ্মনাম ব্যবহার করে মুসলিম ছাত্রীকে ধর্ষণ, বোরকা, হিজাব ও নারী বিদ্বেষমূলক লিখা লিখতেন। পরবর্তীতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা নানা অনুসন্ধানে খোঁজ পান, এই রেডিটের ‘WeeklyService923’ নামের ছদ্মনামের আড়ালে ছিলেন শ্রীশান্ত রায়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে তার বিচার ও বহিষ্কারাদেশের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘ধর্ষকের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’ ও ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, ধর্ষক নো মোর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীশান্তকে সাময়িক বহিষ্কার বুয়েট কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার (২২ অক্টোবর) বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায় (আইডিঃ ২১০৬১৬৯)-এর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো।’

এরপরে ওইদিন গভীর রাতে বুয়েট কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চকবাজার থানায় এই মামলা করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। এরপর ভোর রাতে আহসানুল্লাহ হল থেকে অভিযুক্ত ছাত্রকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এদিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে চকবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘মামলায় আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।’

সম্পর্কিত