নারীর রাজনীতিতে প্রধান বাধা সাইবার হয়রানি

ঢাবি প্রতিনিধি।
সেমিনারে বক্তারা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সাইবার বুলিং নিয়ে আলোচনা করছেন। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
সেমিনারে বক্তারা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সাইবার বুলিং নিয়ে আলোচনা করছেন। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে জানানো হয়েছে, দেশে সাইবার বুলিংয়ের শিকারদের ৮০ শতাংশ নারী ও কিশোরী। ভুয়া অশ্লীল ভিডিও, মিথ্যা প্রোফাইল ও অশালীন বার্তার মাধ্যমে তারা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যার ফলে মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রতিটি ১০ নারী ভুক্তভোগীর মধ্যে একজন হতাশাজনিত গুরুতর স্নায়ুবৈকল্যে আক্রান্ত হয়। এই পরিস্থিতি নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আবদুল্লাহ ফারুক কনফারেন্স হলে শুক্রবার সামাজিক সংগঠন ‘দ্য বাংলাদেশ রেজোনেয়ার’ আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী রাজনৈতিক কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, হুমকি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন, যা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতেও নির্বাচনের সময় ধর্ষণ হুমকি ও চরিত্রহননের ঘটনা ঘটেছে, যা নারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে।

সেমিনারে বলা হয়, ২০২২ সালে রিপোর্টকৃত অনলাইন অপরাধের ৫২ শতাংশই সাইবার বুলিং সম্পর্কিত, যার অনেকগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বক্তারা উল্লেখ করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮সহ বিভিন্ন নীতি থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল অনলাইন হয়রানির ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো, মানসিক পুনরুদ্ধার ও ক্ষমতায়নের পথ দেখানো এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উৎসাহ যোগানো।

টিবিআরের চেয়ারপারসন জান্নাতুন নওরীন ঊর্মি বলেন, “এ উদ্যোগ শুধু অনলাইন নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা। আমাদের লক্ষ্য এমন এক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, যেখানে তরুণীরা হয়রানির ভয় ছাড়াই নেতৃত্ব দিতে পারে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. মো. রাহানুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান, সাংবাদিক সানজিদা ইসলাম জুঁই এবং ভারতের পলিটি অ্যাকশন ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা নিবেদিতা বিশ্বাস। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

সম্পর্কিত