আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা এবং একই সময়ে রমজান মাস শুরু হওয়ার কারণে দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে না পারলে ভর্তি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসএসসি ও এইচএসসি ফল প্রকাশের অল্প কিছুদিন পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার তারিখও পূর্বের তুলনায় আগেই নির্ধারণ করা হতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে চিন্তা করছে। এতে করে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে পরীক্ষাগুলো শেষ করে ফল প্রকাশ ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা সহজ হবে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ভর্তি কার্যক্রমকে দ্রুততর করার বিষয়ে কাজ করছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার স্বাভাবিক রাখতে পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসেই আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি করলে নতুন শিক্ষাবর্ষে কার্যক্রম শুরু করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।তবে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নির্বাচনের আগে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই গুচ্ছভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচন শেষে তাদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মনে করছে, যদি ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তবে নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভাব পড়বে না। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যোগ দিতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সুষ্ঠুতা বজায় রাখবে।