বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং এর অধীন ২১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রিম প্রদত্ত অর্থের সঠিক সমন্বয় না করায় বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামে প্রায় ৪৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি অগ্রিম অর্থ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে এর হিসাব মেলানো হয়নি। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয় নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণের জবাবই দেয়নি। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আংশিক জবাব দিলেও তা যথেষ্ট নয় বলে অভিহিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকার অগ্রিম বকেয়া রয়েছে। এ অর্থের বেশিরভাগই বিভিন্ন প্রকল্প, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, বিদেশ ভ্রমণ ও কেনাকাটার খাতে ব্যবহার দেখানো হলেও তার প্রমাণপত্র বা সমন্বয় নথি জমা দেওয়া হয়নি।
ইউজিসি জানায়, তাদের কিছু অগ্রিম খরচ ইতিমধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে এবং প্রায় দুই লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি টাকার জন্য এখনও সময় চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর বলছে, দীর্ঘ সময় অগ্রিম অর্থের জবাব না দেওয়ায় এটি প্রশাসনিক গাফিলতি ও আর্থিক অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ।
অভিজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য হলেও আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় প্রশাসনের দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এসব অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সর্বোপরি, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই উদাসীনতায় কোটি কোটি টাকা অগ্রিম অর্থ ঝুলে আছে। এখন দেখা যাক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ ফেরত নিশ্চিত করে।