প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বিতরণে দীর্ঘদিনের চরম বিলম্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক।
বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য স্বর্ণপদকের অপেক্ষায়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য স্বর্ণপদকের অপেক্ষায়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম সন্মানজনক পুরস্কার ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ বিতরণে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০০৫ সালে চালু হওয়া এই পদক মূলত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স স্তরের প্রথম শ্রেণির প্রথম স্থানাধিকারীদের জন্য প্রদত্ত হতো। তবে ২০১৮ সালে নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিগত কয়েক বছরে পদক বিতরণের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ প্রদান করেন। এরপর ২০১৯ সালের প্রাপ্য শিক্ষার্থীরা এখনও পদক পাননি। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০১৯ সালের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। এতে ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৮ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন। তবে নানা জটিলতার কারণে ২১ মে নির্ধারিত অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়নি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যারা অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন, তারা এ পুরস্কারের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদা পান। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।’

ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিকেশন ডিভিশনের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টা যদি সময় দেন, তবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনো কোন চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের মনোবল ও উৎসাহের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে এই পুরস্কারের সময়মতো বাস্তবায়ন এখন অত্যন্ত জরুরি।

সম্পর্কিত