রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে বারবার পরিবর্তন ও স্থগিতাদেশে অস্থির হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনের তারিখ ইতোমধ্যেই তিনবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সাতবার নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মূলত “পোষ্য কোটা” ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে এ কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ২০ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারসহ একাধিক কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’। এর ফলে শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা সামাল দিতে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ২৫ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ভোট ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
যদিও ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা এসেছে, তবুও বিএনপি-সমর্থিত কিছু শিক্ষক এখনও শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা শুরু করেননি। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এদিকে ছাত্র সংগঠনগুলোও ভোট স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন প্যানেলের দাবি, প্রশাসন বারবার নির্বাচন পেছানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। অপরদিকে ক্ষমতাসীনপন্থি সংগঠনগুলো বলছে, অরাজনৈতিক দাবির আড়ালে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, ভোট আয়োজন নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। তাদের দাবি, প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।