রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ক্যাম্পাসে কোটা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আকস্মিকভাবে হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার শুভ এবং বিএনসিসির কিছু সদস্য এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ হামলায় অন্তত কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে সালাউদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা শুধু লাঠিচার্জই করেননি, বরং তাদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েকজনকে কলার ধরে টেনে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গেলে যদি এমনভাবে হামলার শিকার হতে হয়, তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়? তারা অবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত অশোভন ও লজ্জাজনক।
অন্যদিকে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও বাহিরের সংগঠনের সদস্যরা কেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করবেন? তারা মনে করছেন, এ ধরনের হামলা শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমনে একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, হামলার দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বর্তমানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা দলে দলে সমবেত হয়ে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।