রাবিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহালে আন্দোলন

রাবি প্রতিনিধি।
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং রাকসু নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।পোষ্য কোটা পুনর্বহালের ফলে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানরা স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে। শিক্ষার্থীরা এটিকে অন্যায় ও ব্যক্তিগত স্বার্থসাধনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র একটি ‘অবৈধ সিন্ডিকেট’-এর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত। তবে পোষ্য কোটা পুনর্বহাল করলে সামাজিক ও শিক্ষাগত বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত রাকসু নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ছাত্রসংঘের কার্যক্রমকে বিভ্রান্ত করবে।শিক্ষার্থীরা এদিন “ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, পোষ্য কোটার কবর দে” এবং “রক্ত লাগলে রক্ত নে, পোষ্য কোটার কবর দে” স্লোগান দেন। এই স্লোগান কর্মসূচিতে তাদের দৃঢ় অবস্থান এবং প্রাচীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছেন, এই পুনর্বহাল প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সব শিক্ষার্থীর স্বার্থ ও ন্যায্যতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসূচিতে তারা আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলন চালানোর হুমকিও দিয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ দেখাচ্ছে যে, পোষ্য কোটা পুনর্বহাল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়ে গেছে। বিভিন্ন সামাজিক এবং শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মেও এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

শিক্ষার্থীদের এই পদক্ষেপ শিক্ষার ন্যায্যতা ও সমতার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তারা নিশ্চিত করতে চাইছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া এবং ছাত্ররাজনীতিতে কোনভাবেই বৈষম্য ও প্রভাব বিস্তার না ঘটুক।

সম্পর্কিত