রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোছা. সায়মা হোসেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সাঁতার শেখার সময় ডুবে মারা যান। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষক সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারেননি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন: ‘তুমি কে আমি কে, সায়মা সায়মা’, ‘বিচার চাই’, ‘আমার বোন মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘প্রশাসনের সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও’।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সায়মার মৃত্যু স্বাভাবিক না কোনো গাফিলতির কারণে হয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য তারা প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু সময় পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. সোহাগ হোসেন বলেন, “আমরা সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন চাই। এটি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রশাসন যেন সঠিক প্রতিবেদন দেয়। কেউ যেন বাঁচানোর চেষ্টা না করে। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে, তাদের পদত্যাগ বা চাকরিচ্যুত করা হোক। এছাড়া সায়মার পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা এবং তার ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির ব্যবস্থা করা হোক।”
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, রাকসু প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সিনেটে বসবেন। তদন্ত রিপোর্ট শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রথম অধিবেশন শুরু হলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এই বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিকে আরও তীব্রভাবে তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো পর্যন্ত স্থির সিদ্ধান্ত বা প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
/এমএস