রাবিতে শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে তোলপাড় প্রশাসন!

রাবি প্রতিনিধি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস— শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রশাসনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস— শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রশাসনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার’ অভিযোগ ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদ, প্রক্টর প্রফেসর মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর আখতার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন— বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্ক তৈরির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে অধ্যাপক আমিনুল দাবি করেছেন, তাকে অপমান ও হেনস্তা করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ৩০ অক্টোবর দুপুরে, যখন শিক্ষার্থী সায়মা হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন সিনেট ভবনে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক আমিনুল ও জনসংযোগ প্রশাসক আখতার হোসেনের মধ্যে তদন্ত নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলেও কোনো শারীরিক সংঘর্ষ হয়নি।

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন,“প্রফেসর আমিনুল কয়েকবার উত্তেজিত হয়ে সামনে আসলেও জনসংযোগ প্রশাসক তাকে শান্ত করেন এবং সেখানেই বিষয়টির সমাপ্তি ঘটে।”

তিনি আরও যোগ করেন,“ঘটনার সময় কেউ কারও গায়ে হাত তোলেননি। শুধু কথার বিনিময় হয়েছে, যা শিক্ষকদের মাঝে স্বাভাবিক।”

অন্যদিকে, অধ্যাপক আখতার হোসেন বলেন,“আমরা কথা বলতে বলতে বাইরে আসি, সায়মার তদন্ত নিয়ে কিছুটা তর্ক হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি বিষয়টিকে ‘লাঞ্ছনা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে— যা একেবারেই ঠিক নয়।”

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল মাসউদ বলেন,“অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে কিছু ব্যক্তি ঘটনাটিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে।”

তবে ভুক্তভোগী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন,আমাকে সিনেটের বাইরে উচ্চস্বরে কথা বলে অপমান করা হয়েছে। তেড়ে আসা মানেই লাঞ্ছনা নয় কি? শুধু মারধর নয়, মৌখিক অপমানও লাঞ্ছনা।”

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিভক্ত মতামত দেখা দিয়েছে। শিক্ষক মহলে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে, যাতে সত্য উদঘাটন হয় এবং ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক আর না ঘটে।

/এমএস

সম্পর্কিত