রাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থীদের অঙ্গীকার

রাবি প্রতিনিধি।
রাকসু ভিপি প্রার্থীদের বিতর্কে প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, প্রতিশ্রুতির ঝড় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
রাকসু ভিপি প্রার্থীদের বিতর্কে প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, প্রতিশ্রুতির ঝড় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থীরা একে একে উন্মোচন করেছেন নানা প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জুবায়ের হোসেন অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিতর্ক অনুষ্ঠানে নয়জন ভিপি প্রার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও শিক্ষাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিতর্কটি চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়—প্রথমে প্রার্থীরা তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন, এরপর নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তর দেন। তৃতীয় পর্বে দর্শক ও শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দেন তারা এবং শেষ পর্বে নিজেদের উপসংহার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পুরো অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল প্রাণবন্ত।

প্রার্থীরা তাদের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, আবাসন সংকট সমাধান, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নসহ একাডেমিক পরিবেশকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন। কেউ কেউ রাকসুকে ছাত্রকল্যাণের প্রকৃত প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন।

একজন প্রার্থী বলেন, “রাকসু হবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর—যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ছাত্রদের মতামতের ভিত্তিতে।” অন্য একজন প্রতিশ্রুতি দেন, “আবাসন সংকট দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা হবে।” অপর এক প্রার্থী প্রশাসন-শিক্ষার্থী সম্পর্ক মজবুত করে ক্যাম্পাসকে অরাজনৈতিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন।

বিতর্কের দ্বিতীয় ধাপে সঞ্চালকগণ প্রশ্ন করেন রাকসুর ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। প্রতিটি প্রার্থী নিজেদের দলীয় অবস্থান বা ব্যক্তিগত দর্শনের বাইরে গিয়ে ‘সবার জন্য রাকসু’ গঠনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রশ্ন করেন—যেখানে মূল আলোচ্য ছিল নিরাপত্তা, নারী শিক্ষার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধি ও কোষাধ্যক্ষ বরাদ্দের স্বচ্ছতা। প্রার্থীরা সবাই একমত হন, নির্বাচিত হলে তাঁরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবেন।

এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে রাকসু নির্বাচনে প্রতিযোগিতা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন। অনেকের মতে, এমন আলোচনার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের নেতৃত্বের মান যাচাই করা সম্ভব।

সম্পর্কিত