দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্র সংসদ (জকসু ও বরকসু) নীতিমালা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করেছে। এর মাধ্যমে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পথ উন্মুক্ত হলো।সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জকসু নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে জকসু নীতিমালায় স্বাক্ষর করেছেন। এখন নির্বাচন কমিশন গঠন ও তফসিল ঘোষণা হলেই নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হবে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়েই জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের খবর আমরা পেয়েছি। তবে হাতে নথি পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সম্ভব হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটলে আমরা পরিকল্পিত সময়সূচিতেই জকসু নির্বাচন আয়োজন করবো।”এদিকে একই দিন সন্ধ্যায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীও বেরোবির ছাত্র সংসদ নীতিমালা পাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আগামীকালই (২৮ অক্টোবর) গেজেট প্রকাশ হতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গঠনে আর কোনো বাধা থাকছে না।”
বেরোবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস প্রামানিক বলেন, “রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ আইন আজ বিকেলে অনুমোদিত হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”বিশ্ববিদ্যালয় দুটির নীতিমালা অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ৩০ বছরের বেশি সময় পর এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন বার্তা দিচ্ছে