জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জনসংযোগ অফিসে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে কর্মরত হাফিজুর রহমান এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন— এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গেছে, তিনি বর্তমান চাকরির তথ্য গোপন করে আবেদন করেছেন এবং যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ না করেও লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট ইবির কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত প্রার্থীদের আবেদন করতে হলে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে হয়। কিন্তু হাফিজুর রহমান তা না করেই আবেদন করেন। সিন্ডিকেট সভার আগে তিনি পরবর্তীতে এনওসি যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, তাঁর স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফলাফল ৩.৫০-এর কম হওয়ায় তিনি যোগ্য প্রার্থী নন। তারপরও বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি তাঁকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। প্রাথমিক ফলাফলে তিনি উত্তীর্ণ না হলেও সংশোধিত ফলাফলে হঠাৎ তাঁর নাম যুক্ত হয়, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, বেশ কিছু প্রার্থী অভিযোগ করেছেন যে, নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ যথাসময়ে জানানো হয়নি, ফলে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। প্ল্যানিং কমিটির তালিকায় ৩৩ জন প্রার্থীর নাম থাকলেও পরীক্ষা দেন মাত্র ২০ জন।
হাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এনওসি নিয়েছি, আর আমার ভারতীয় মাস্টার্স ডিগ্রিও সংযুক্ত করেছি। নিয়মের বাইরে কিছু হলে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে পরীক্ষায় বসতে দিত না।” তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তাঁর এনওসির কোনো কপি নেই।
ইবির সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামান দাবি করেন, প্রক্রিয়াটি সততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, কোডিংয়ে সামান্য ভুল হয়েছিল যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা হয়।
তবে ইবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, “আমার কাছে কোনো এনওসি আসেনি। যদি তথ্য গোপনের প্রমাণ মেলে, নিয়োগ পেলেও তা বাতিল করা হবে।”
/এমএস