ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে দৈনন্দিন আচরণগত একটি ছোট বিষয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং হাতাহাতিতে গড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সিনিয়রদের সাথে একটি সাধারণ বিষয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে শারীরিক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দ্রুত অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসে। এসময় অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আঘাতপ্রাপ্ত হন, যাদের মধ্যে দু’জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কও লক্ষ্য করা যায়। অনেকে অভিযোগ করেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন হলে অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। ছোটখাটো বিষয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, “আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, এ ধরনের মারামারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। তারা বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার অভাব থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি এবং উদ্বেগ রয়ে গেছে। প্রশাসন ও শিক্ষক সমাজের তৎপরতা ছাড়া এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে সবাই মনে করছেন।