টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে নানা আয়োজনে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিনটি শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিনা বেগম বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। আনন্দঘন এই শোভাযাত্রা শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে কেক কাটা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকালে ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও পরিচালনা করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-অফিস সহকারীরাও অংশগ্রহণ করেন। বিকেলে আয়োজিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো। আজকের এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই মহৎ উদ্দেশ্যের কথা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা মানবিকতা, নৈতিকতা ও উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে সমাজে অবদান রাখুক।’
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পুরো ক্যাম্পাসে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলন মেলায়।
মাভাবিপ্রবি প্রশাসন জানায়, প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় শিক্ষার্থীদের মাঝে। একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির পাশাপাশি গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করছে।