বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সিলেট এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এএসএম রিদওয়ানুর রহমান এডব্লিউসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এক নতুন জীবন, রোমাঞ্চকর অধ্যায়। স্কুল, কলেজের জীবনের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একটু অন্যরকম। এর সাথে মানিয়ে নিতে হবে। এই জীবনে সুখকর মুহুর্ত থাকবে, চ্যালেঞ্জ থাকবে। দুটোর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হচ্ছে আলোকিত মানুষ হওয়া। নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে শিক্ষাজীবনের এই ধাপে দৃঢ়তায় এগিয়ে যেতে হবে।
দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মেজর জেনারেল রিদওয়ানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পুঁথিগত বিদ্যার বাইরের এক নতুন জীবন। এ জীবন মুক্তচিন্তার, উদ্ভাবনী চিন্তার। বিশ্ববিদ্যালয় নতুন পথ, নতুন চিন্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এখানে স্বাধীনতা আছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা তা করা নয়। বরঞ্চ স্বাধীনতায় শৃঙ্খলাবোধ, শ্রদ্ধাশীলতা, সহনশীলতা থাকতে হবে। একজনের মতের সাথে অন্যজন দ্বিমত প্রকাশ করতে পারি। কিন্তু মত-দ্বিমত প্রকাশ হতে হবে মার্জিত, গঠনমূলক, শালীন।
সেনা কর্মকর্তা রিদওয়ানুর রহমান আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে। প্রতিনিয়ত এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মুহিতুল বারী রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. তাহের বিল্লাল খলিফা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ইশরাত ইবনে ইসমাইল। নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাহিকুল হক সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী বলেন, বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানের নিমিত্তে আমরা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করি। শিক্ষার্থীদেরকে আমরা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করছি। আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা গুগল, অ্যামাজনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে চাকরি করছেন। শুধু শিক্ষা প্রদানই নয়, মানবিক, হৃদয়িক ও সহনশীল মানুষ তৈরিও আমাদের লক্ষ্য।
তানভীর এমও রহমান চৌধুরী বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটা বাস্তবায়নের পথেই আমরা হাঁটছি। একবিংশ শতাব্দীর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষামান বজায় রেখে চলেছি আমরা। শিক্ষার্থীদেরকে ব্যক্তি ও কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিকুল হোসেন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বিন মাসুদের কোরআন তেলাওয়াতে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এর আগে প্রধান অতিথিকে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করে বিএনসিসির একটি সুসজ্জিত দল। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট গ্রুপ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।