আশুলিয়ার সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছোট একটি বাক্যবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনা শুরু হয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ড পর্যন্ত ঘটনাগুলো বিস্তৃত হয়। সংঘর্ষে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর মোটরসাইকেল থেকে থুথু পড়ায়। এ ঘটনার পর ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীরা প্রতিশোধ নিতে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারায়। সিটি ইউনিভার্সিটির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ড্যাফোডিলের ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ বাসায় হামলা চালায়। ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া শুরু করে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫–৭টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরানো চেষ্টা করা হয়। এতে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) জানিয়েছে, উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ক্ষতি ছাড়াও শিক্ষার্থীদের উগ্র আচরণ দুই প্রতিষ্ঠানের সুনামহানি করেছে। তাই উভয়পক্ষের দায়িত্বশীলদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতি প্রতিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।
উভয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে ক্যাম্পাসে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।