বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যরা (Acting VC) আর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করতে পারবেন না। নতুন প্রস্তাবিত ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য না থাকলে রাষ্ট্রপতির নিয়োগপ্রাপ্ত প্রো-ভিসি (Pro-VC) অথবা রেজিস্ট্রার সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, আইনটির খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে সরকার এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।
২০১০ সালের আইনে উপাচার্য না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদানের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা ছিল না। নতুন সংশোধিত আইনে সেই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক জটিলতায় না পড়ে।
খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে— সার্টিফিকেট অবশ্যই আচার্য কর্তৃক নিযুক্ত উপাচার্যের স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে, আর মার্কশিট ও ট্রান্সক্রিপ্টে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। এতে একাডেমিক নথির প্রতিটি স্বাক্ষরকারীর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকতে পারবে না— এমন নতুন বিধানও যুক্ত হয়েছে। ইউজিসি জানায়, ট্রাস্টি বোর্ডে সদস্য সংখ্যা নূন্যতম ৯ এবং সর্বাধিক ১৫ জন হতে হবে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনে স্বচ্ছতা, বৈচিত্র্য এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
গত ২৩ অক্টোবর ইউজিসির ৫৭তম সভায় এই সংশোধিত আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে বোর্ডে পারিবারিক প্রভাব সীমিত করার পাশাপাশি নেতৃত্বের ভারসাম্য আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
খসড়ায় আরও উল্লেখ আছে— বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে ৫ একর জমি থাকা বাধ্যতামূলক, এবং টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নিতে হবে। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রেও ইউজিসির নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৫টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি। ইউজিসির আশা— নতুন আইন কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হবে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ, এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি কমবে।
/এমএস