হাবিপ্রবিতে একাডেমিক কাউন্সেলিং এন্ড মোটিভেশন শীর্ষক সেমিনার

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানে ৮টি অনুষদের লেভেল-১ এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
অনুষ্ঠানে ৮টি অনুষদের লেভেল-১ এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১ এর শিক্ষার্থীদের জন্য “একাডেমিক কাউন্সেলিং এন্ড মোটিভেশন” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে । আজ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-১ এ উক্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনবৃন্দ, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান এবং বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক কৃষিবিদ প্রফেসর ড. সাইফুল হুদা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, আমি স্মরণ করছি উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ সন্তান যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে বাংলাদেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে পরিচয় করে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র, সেই বীর সন্তান শহিদ মো. আবু সাঈদসহ শহিদ মুগ্ধ ও রাহুলকে। একইসঙ্গে সেই সময় গণআন্দোলনে শহিদ ছাত্র-জনতা, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ যাঁরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে আত্মাহুতি দিয়েছেন, আমি তাঁদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। এই আন্দোলনে যাঁরা আহত হয়েছিলেন, এখনও অনেকেই হাঁসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আমি তাঁদের আশু রোগমুক্তি কামনা করছি।

তিনি বলেন, তোমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান, কেননা গত বছর তোমরা তদানীন্তন স্বৈরাচারী সরকারের পেটুয়া বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে নিজেদের বিবেকের তাড়নায় আন্দোলনের মাঠে ছিলে। তোমাদের ভাইয়েরা রাস্তায় শহিদ হওয়ায় তোমরা আর নিজেদের স্থির রাখতে পারোনি। তোমাদের কল্যাণেই আমরা স্বৈরাচারের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত পরিবেশ পেয়েছি। তাই বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে শহিদদের আদর্শ ও চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলবে। তিনি আরোও বলেন, এ ধরণের সেমিনার শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জন এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষাজীবন গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সকল প্রকার কু-প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে এবং সহপাঠীদের বিরত রাখবে। মাদক ও র‌্যাগ থেকেও নিজেদের বিরত রাখতে হবে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-সংস্কৃতি, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ইতিবাচক মনোভাব গঠনের উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর কবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সততা, নৈতিক গুণাবলী, নেতৃত্ব, দলবদ্ধ সিদ্ধান্ত, সংকটকালীন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, সময়ের সঠিক ব্যবহার (ব্যবস্থাপনা), আইসিটি জ্ঞান, এক্সটা কারিকুলাম একটিভিটিস ইত্যাদি গুণাবলী থাকতে হবে। যা একজন গ্র্যাজুয়েট এর জন্য অত্যাবশ্যকীয়। পাশাপাশি ভালো ফলাফলের জন্য প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম অপরিহার্য। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার মেধার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে তোলে এই বিশ^বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি কৃষিবিদ প্রফেসর ড. সাইফুল হুদা বলেন, বড়দের সম্মান এবং ছোটদের ¯েœহ করবে, র‌্যাগ ভুলে যাবে এবং নিজেদের হিনমন্যতা ভুলে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করবে। 

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ৮টি অনুষদের লেভেল-১ এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
 

সম্পর্কিত