দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এতদিন এসব প্রতিষ্ঠানে আয়া, নাইটগার্ডসহ বিভিন্ন কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা ছিল পরিচালনা পর্ষদ বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় সেই ক্ষমতা আর তাদের হাতে থাকছে না। এখন থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে তদারকি করবেন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটি।
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় গঠিত নিয়োগ সুপারিশ কমিটির সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক। সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলার সবচেয়ে পুরোনো সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বা তার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের একজন প্রতিনিধি এবং জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বা সহকারী পরিচালক। আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
এই কমিটিই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রণয়ন ও চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষার জন্য একাধিক বোর্ডও গঠন করা যাবে। অর্থাৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ এখন থেকে এই সরকারি কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা ও অনিয়ম বন্ধ করা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের প্রভাব পড়ত। ফলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হতেন। নতুন পদ্ধতি চালু হলে এসব অনিয়ম কমবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
তবে শিক্ষা মহলে এ নিয়ে ভিন্নমতও দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাত থেকে নিয়োগ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ায় তাদের ভূমিকা ক্ষুণ্ন হলো। আবার কেউ কেউ বলছেন, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটি থাকলে রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও থেকে যাবে।
সবমিলিয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে এটি কতটা স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত নিয়োগ নিশ্চিত করতে পারে।