বিগত এইচএসসি ফলাফলে ভুল ছিল: বোর্ড সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি খন্দোকার এহসানুল কবির ফলাফল বিশ্লেষণ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি খন্দোকার এহসানুল কবির ফলাফল বিশ্লেষণ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

দেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পাসের হার নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮.৮৩ শতাংশে, যা গত বছরের ৭৭.৭৮ শতাংশ থেকে প্রায় ১৯ শতাংশ কম। এই বিশাল পার্থক্যের কারণ হিসেবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দোকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, “বিগত কয়েক বছরের ফলাফলগুলোয় গলদ বা ভুল ছিল।”

তিনি বলেন, “এবার আমরা নম্বর প্রদানে কঠোর নীতিতে গিয়েছি। কেউ ভুল উত্তর লিখলে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। এখন থেকে যে যোগ্য, সে-ই নম্বর পাবে। মূল্যায়নে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তার মতে, আগের বছরগুলোতে খাতা মূল্যায়নে কিছুটা নমনীয়তা ছিল, যার ফলে গড়পড়তা ফলাফলে অতিরিক্ত নম্বরের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার কঠোর মূল্যায়ন ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কারণে ফলাফল বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।

ফলাফলে দেখা গেছে, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত বছর ১ হাজার ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছিল, আর এবার তা নেমে এসেছে মাত্র ৩৪৫টিতে। এই প্রবণতা বোর্ডের কঠোর নীতিমালারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে তাদের প্রাপ্ত নম্বর যাচাই করছেন। ফলাফল জানা যাচ্ছে তিনটি মাধ্যমে—শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল, সরকারি ওয়েবসাইট **www.educationboardresults.gov.bd**-এ

রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে, এবং মোবাইলের এসএমএস পদ্ধতিতে।

যারা নিজেদের ফলাফল নিয়ে সন্দিহান, তারা খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এই সুযোগে শিক্ষার্থীরা ভুল সংশোধনের আবেদন জানাতে পারবেন, যা স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, কঠোর মূল্যায়নের ফলে সামগ্রিক ফলাফল কিছুটা কমলেও এটি ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। তারা বলছেন, ‘ফলাফল যতই কঠিন হোক, তা যদি বাস্তব হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা আরও মনোযোগী ও প্রস্তুত হবে।’

সম্পর্কিত