নান্দাইল উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। এবারের এইচএসসি ফলাফলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে অনেকে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় চলে যাচ্ছেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই অকৃতকার্য হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষকরা বলছেন, দরিদ্রতা, ব্যবহারিক ক্লাসের অভাব এবং শিক্ষকদের অনাগ্রহই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
উপজেলায় সাতটি কলেজ ও ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক কম। অনেক কলেজেই এখন বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি নেই বললেই চলে। যেমন মুশুলী কলেজে চলতি বছর মানবিক ও ব্যবসা বিভাগে ১৩১ জন ভর্তি হলেও বিজ্ঞানে একজনও ভর্তি হয়নি।
কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হক বলেন, “শিক্ষক সংকট নেই, তবে বিজ্ঞানাগার না থাকায় ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া যায় না। তাই শিক্ষার্থীরা শহরে গিয়ে ভর্তি হয়।” একইভাবে আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী মহিলা কলেজে তিনজন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী থাকলেও সবাই ফেল করেছে। অধ্যক্ষ আঞ্জুমান আরা বেগমের মতে, দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা প্রাইভেট পড়তে পারে না, তাই মুখস্থ নির্ভর বিভাগ বেছে নেয়।
গ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়েও একই অবস্থা। চকমতি ডিএস ফাজিল মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণিতে বিজ্ঞানের দুই শিক্ষার্থী হিমু ও বৃষ্টি জানায়, “শিক্ষক নেই, বিজ্ঞানাগারও নেই—তাই বিজ্ঞানে পড়া কঠিন।” মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম বলেন, “বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা গ্রামে থাকতে চান না, কিছুদিন পরই বদলি নিয়ে চলে যান।”
পৌর শহরের সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজেও বিজ্ঞানের চিত্র হতাশাজনক। ১০১ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে মাত্র ২১ জন পাস করেছে। অনেক শিক্ষার্থী বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে পাস করা কঠিন, তাই অন্য বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, “গ্রামীণ অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সন্তান কোন বিষয়ে পড়লে ভবিষ্যতে কী হবে, তা তারা জানেন না। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”