বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় আবার ফিরছে পুরনো বিভাগভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা—বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (সায়েন্স-আর্টস-কমার্স)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে পুনরায় ফিরে যাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আগের মতো বিভাগভিত্তিক পাঠ্যসূচিতে ফিরে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কার্যকর হবে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছিল। পরের বছর এটি দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে চালু হয়। ওই সময় নবম শ্রেণিতে বিভাগভিত্তিক বিভাজন তুলে দিয়ে সমন্বিত পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছিল। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১’ থেকে সরে গিয়ে পুরনো শিক্ষাক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার উপযোগী বই সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন করে প্রণীত পাঠ্যসূচিও অনুমোদন পেয়েছে, এবং শিক্ষার্থীরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এরপর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের কার্যক্রম শুরু হবে। অন্যান্য বোর্ডও একই সময়সূচি অনুসরণ করবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীরা পুনর্বিন্যাসকৃত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দেবে। অন্যদিকে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস প্রযোজ্য হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত নতুন সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিই ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আগের পরিচিত কাঠামোতে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে।