গ্রামীণ শিক্ষায় প্রযুক্তির আলো ছড়াল ইউসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক।
ইউসিবির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কম্পিউটার গ্রহণ করছেন মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
ইউসিবির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কম্পিউটার গ্রহণ করছেন মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শান্ত মাধবপাশা গ্রামে প্রায় এক শতাব্দী পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিদিন এখানকার চার শতাধিক শিক্ষার্থী স্বপ্ন দেখে বড় কিছু করার, কিন্তু সীমিত সুযোগ-সুবিধা অনেক সময় তাদের পথের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

শহরের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে তাল মেলানো ছিল কষ্টসাধ্য। ল্যাবরেটরি, প্রযুক্তিগত উপকরণ বা কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতেই আশার আলো হয়ে আসে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)।

ব্যাংকটি তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়টিতে ১০টি নতুন কম্পিউটার উপহার দিয়েছে। এই সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন হাতে-কলমে প্রযুক্তি শেখার সুযোগ পাচ্ছে— যা তাদের শিক্ষাজীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউসিবির প্রতিনিধি দল বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জীবন কৃষ্ণ বেপারীর হাতে কম্পিউটারগুলো তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গভর্নিং কমিটির সভাপতি ডা. প্রদীপ কুমার সরকার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অধ্যক্ষ বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা আগে শুধু বইয়ে কম্পিউটার পড়ত, এখন তারা নিজের হাতে ব্যবহার করতে পারবে। এটা আমাদের গ্রামের শিক্ষার উন্নয়নের নতুন সূচনা।”

অভিভাবকেরাও স্বস্তি প্রকাশ করেন— এখন সন্তানদের শহরে পাঠানো ছাড়াই তারা প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ হতে পারবে। ইউসিবির কর্মকর্তারা জানান, “জ্ঞান ও প্রযুক্তিই সমাজ পরিবর্তনের বড় হাতিয়ার, তাই আমরা চাই গ্রামের শিশুরাও ডিজিটাল দক্ষতায় এগিয়ে থাকুক।”

মাত্র ১০টি কম্পিউটার দিয়ে শুরু হলেও, এই উদ্যোগের প্রভাব হতে পারে অনেক দূরপ্রসারী। এই গ্রামের শিক্ষার্থীরাও এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে এগিয়ে যেতে পারবে।

/এমএস

সম্পর্কিত