জিপিএ-৫ গর্ব নয়, শিক্ষার বাস্তব সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক।
জিপিএ-৫ মানেই সাফল্যের হাতছানি, ধারণাটি ভুল। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
জিপিএ-৫ মানেই সাফল্যের হাতছানি, ধারণাটি ভুল। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

বাংলাদেশে প্রতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে উল্লাস ও সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যা ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা সন্তানের সাফল্যে গর্বিত হন, বিদ্যালয় ও কলেজগুলো নিজেদের ‘সাফল্যের রেকর্ড’ দাবি করে। তবে এ ধারা যে শিক্ষার প্রকৃত মান প্রকাশ করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গত ১৫ বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৯ সালে মাত্র ২০,০০০ শিক্ষার্থী GPA-৫ অর্জন করেছিল, যা ২০১৪ সালে বেড়ে ৭০,০০০ ছাড়িয়েছে। ২০২০ সালে মহামারীর কারণে পরীক্ষার বাতিলের পরও পূর্ববর্তী ফল ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১,৬০,০০০ শিক্ষার্থী GPA-৫ পায়। এরপর ২০২১ সালে সংখ্যা ১,৮৯,০০০ এবং ২০২২ সালে ১,৭৬,০০০ পর্যন্ত পৌঁছে। ২০২৩ সালে হ্রাস পেয়ে ৭৮,০০০ এবং ২০২৪ সালে পুনরায় ১,৪৬,০০০ হয়েছে।

এই ঊর্ধ্বগতি শিক্ষার মানের বাস্তব চিত্রকে প্রতিফলিত করে না। মূল সমস্যাগুলো হলো রটে মেমোরাইজেশন, সৃজনশীলতার অভাব, ও বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতির ঘাটতি। ফলে GPA-৫ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারে বাস্তব দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে যায়।

রাজনীতিকদের জন্য GPA-৫ একটি প্রচারমূলক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, যা সরকারের শিক্ষামূলক সাফল্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে GPA-৫-এর গুরুত্ব কমে গেছে, এবং এটি শিক্ষার্থীর বাস্তব যোগ্যতার নির্ধারক হিসেবে কাজ করছে না।

বিশ্লেষকরা গ্রেডিং সিস্টেম পুনর্মূল্যায়নের এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত ও বাস্তবমুখী মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা ও ব্যবহারিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত