ক্লাসরুমে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করায় এক ক্যাম্পাসে ১৭০টি স্মার্টফোন জব্দ করার কাণ্ড ঘটেছে। জানা গেছে, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ-এর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাগ পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কলেজের একাধিক শ্রেণিকক্ষে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া যায়, যে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ক্লাস চলাকালীন ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও ভাইরাল চ্যাটের মাধ্যমে মনযোগ বিভ্রান্তিকারক আচরণ ক্রমবর্ধমান। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন সে দিন জরুরিভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিটিং ডেকে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। মিটিং শেষে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী চেক করে ১৭০টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের একাংশ দাবি করেছেন, “আমরা কখনও কখনও পড়ার বিরতি বা ফ্রি সময়েই একটু মোবাইল দেখি — কিন্তু এমন জব্দ কখনো হয় নি।” অন্যদিকে কলেজ প্রশাসক জানিয়েছেন, “আচরণবিধি ভঙ্গ, মনযোগ বিঘ্নিত করার মতো ঘটনা আপেক্ষিকভাবে বেড়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠদানে একবিন্দুমাত্র প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই মনোযোগী করতে এই পদক্ষেপ অত্যাবশ্যক।” তারা আরও জানিয়েছে, জব্দ করা মোবাইল ফোন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে এবং পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিতর্কের সূত্রও হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ বলছেন, “মোবাইল নিষিদ্ধ হলেও শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া পর্যাপ্ত বিনোদনের মাধ্যমের অভাবে টেলিফোনই শেষ আশ্রয়।” আবার কেউ পক্ষে, “শিক্ষার সময় মোবাইলের বিজ্ঞপ্তি এবং চ্যাট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে — ঠেকাতে হবে।” অ্যাকাডেমিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোবাইল ফোন শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ এবং তথ্যস্রোতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ক্লাসরুমে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে শিক্ষাদানের মান হ্রাস পেতে পারে।
এই ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন ঘোষণা করেছে, আগামী সপ্তাহ থেকে ক্লাসরুমে মোবাইল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে এবং নির্ধারিত বিরতির সময় ‘মোবাইল হোল্ডিং স্টেশান’ চালু করা হবে, যেখানে পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীরা মোবাইল রেখে একটু বিনোদন বা সামাজিক যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে শিক্ষার্থী-শিক্ষিকার মনোযোগ বাড়বে বলে তাদের ধারণা।