ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে বড় ধরনের নিয়োগ কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে। বর্তমানে এখানে ৯০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং অফিস সহায়ক কাজ করছেন। তাদের মধ্যে কলেজ শাখার ৭০ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫০ জন এবং স্কুলের নন-এমপিওভুক্ত পাঁচজন শিক্ষকের নিয়োগ প্রমাণিতভাবে জাল সনদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকসহ অন্যান্য দায়িত্বরত কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম করেছেন। কিছু শিক্ষক একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেও সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। এমনকি অধ্যক্ষ নিজে দুই পদে (প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ) বেতন উত্তোলন করেছেন।
নিয়োগের সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ভুয়া প্রতিনিধি দেখিয়ে চাকরি প্রদান করা হয়েছিল। এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়েও রিপোর্ট পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষাক্ষেত্রে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় জনগণ এবং শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সমাধানে শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পুনরায় না ঘটে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।