শিক্ষকদের দাবি না মানলে দেশজুড়ে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক।
দাবি আদায়ে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।
দাবি আদায়ে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা আবারও তাদের দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথে নামতে যাচ্ছেন। সরকার কর্তৃক ঘোষিত সীমিত ভাতা বৃদ্ধি তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবার তারা লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রে বাড়ি ভাড়া ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকায় উন্নীত করেছে। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই বৃদ্ধি অপ্রতুল এবং এটি তাদের ন্যায্য দাবি পূরণে যথেষ্ট নয়। তারা দাবি করেছেন, বাড়ি ভাড়া ভাতা কমপক্ষে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা দিতে হবে এবং উৎসব ভাতা দ্বিগুণ করতে হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের আশ্বাস সত্ত্বেও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তারা আগামী রোববার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন। দাবি পূরণ না হলে তারা দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

ফেডারেশনের সভাপতি ও মহাসচিব জানিয়েছেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি অবহেলা করা হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সমাজকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, অথচ শিক্ষার মান উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন তারাই।

তারা আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি কর্মচারীদের মতোই দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু বেতন-ভাতায় বৈষম্য রয়ে গেছে। একই সঙ্গে সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, অবিলম্বে তাদের দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেতন-ভাতায় বৈষম্য ও সুযোগ-সুবিধার অভাব শিক্ষকদের পেশাগত মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এজন্য সরকার ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্পর্কিত