লং মার্চে হামলায় আহত বুটেক্সের একাধিক শিক্ষার্থী

সানজানা শওকত, বুটেক্স প্রতিনিধি
লংমার্চে অংশগ্রহনে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
লংমার্চে অংশগ্রহনে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’-এর ডাকে আয়োজিত লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরাও। শাহবাগ মোড়ে অন্যান্য প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর পুলিশের বাধা ও হামলায় বুটেক্সসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১১টার দিকে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অন্যান্য প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্রিত হয়। তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এসময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং জলকামান ব্যবহার করে। এছাড়া লাঠিচার্জও চালানো হয়। এতে বুটেক্সের ৪৮তম ব্যাচের সামি, ৪৯তম ব্যাচের মাহফুজ, মিরাজ, মাহদি এবং ৫১তম ব্যাচের তনয় ও আশিকসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী আহত হন।আহতদের মধ্যে বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের মাহদি গুরুতরভাবে আহত হন। তিনি সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণে কানে প্রচণ্ড ব্যথা পান, অন্তত দুটি টিয়ারশেল আঘাত করে এবং পুলিশের লাঠির আঘাতেও আহত হন। সহপাঠীরা তাকে দ্রুত সরিয়ে এনে চিকিৎসা দেন।

৪৮তম ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সামি বলেন,“আমরা ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ করেই পুলিশ একের পর এক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। দু’টি টিয়ারশেল আমার ঠিক সামনে এসে পড়ে। মুহূর্তেই চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল, শ্বাস নিতে গিয়ে মনে হচ্ছিল ফুসফুস পুড়ে যাচ্ছে,মুখ ও মাথার ভেতরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছিল। দৌড়ে মেট্রোর নিচ দিয়ে শাহবাগের দিকে যাচ্ছিলাম, কিন্তু চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। অসংখ্য টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে মাথায় আঘাত পাই এবং হাতেও আঘাত লাগে। কবজি ফুলে কালো হয়ে যায়। সহপাঠীরা আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

আলহামদুলিল্লাহ,এখন আমি মোটামুটি ভালো আছি। তবে আশপাশে আমার আরও অনেক সহপাঠী আহত হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো- দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যখন যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছে, তখন তাদের ওপর এভাবে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলো। পুলিশের অনেক সদস্যকে আমরা নিজেদের হাতে ইট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দিকে ছুড়তে দেখেছি, যাকেই পেয়েছে তাকেই মারধর করেছে। আজকের এই পরিস্থিতি দেশের জন্য লজ্জাজনক।”

৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেন,“প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন যখন শুরু হয়, তার আগে এই নবম-দশম গ্রেডের বৈষম্যের কথা আমার জানাই ছিল না। কারণ এই ধরনের চাকরি আমার করার তেমন কোনো আগ্রহই নেই। বুটেক্সের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই সরকারি চাকরিবিমুখ। এরপরেও দেশে যখনই কোনো যৌক্তিক আন্দোলন হয়েছে, আমরা বুটেক্সের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময় এর পক্ষে দাঁড়িয়েছি। ২৪ এর কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২৫ এর প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন, যেখানেই বৈষম্য সেখানেই আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

এরই প্রেক্ষিতে আজ ২৭শে আগস্ট, ২০২৫ আমরা লংমার্চ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণ করে বুটেক্সের প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী মিলে শাহবাগ ব্লকেডে অংশ নেই। দুপুর ১টা পর্যন্ত আমাদের মূল ৩ দফা দাবির প্রেক্ষিতে পরবর্তী ২ দফা দাবি নিয়ে আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও সরকার পক্ষ থেকে আমাদের সাথে কোনোভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। এরপরেই আমরা প্রায় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় দিয়ে যমুনামুখী হওয়া শুরু করলে হঠাৎ পুলিশ আমাদের উপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট (ছররা জাতীয়), ইট-পাথর এবং লাঠি দিয়ে আক্রমণ করতে শুরু করে। যার ফলে প্রায় ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়, যার মধ্যে ৫-৬ জন বুটেক্সিয়ান ছিল।”

উল্লেখ্য, প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন মূলত প্রকৌশল সেক্টরের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করার দাবিকে কেন্দ্র করে চলছে। নবম–দশম গ্রেডে প্রকৌশলীদের সঠিক স্বীকৃতি ও সমান মর্যাদা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। লং মার্চ ও শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচির সময় পুলিশের বাধা ও হামলায় বুটেক্সসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যা আন্দোলনকে আরও তীব্র করেছে।

সম্পর্কিত